সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ১২:৪২
শিরোনাম :
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব অটো চালক নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, মুল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার চায় এলাকাবাসী সততার কারণে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে বছরে দুই বার বদলি বিআরটিসির কর্মকর্তা জামিল! হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবে ইরান সৌদির বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা ১৩৫ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২০ হাজার ৬৭২ যাত্রী বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে বলি বিআরটিসির কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বিএমপি’র পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বশিরকে নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি!

বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খড়ের ঘর

এজি লাভলু,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর। রূপসী-গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর আজ বিলুপ্তির পথে। । এক সময় দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের প্রচলন ছিল কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের বিবর্তনে খড়ের তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যেখানে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে ২-৪টি ছনের তৈরি ঘর চোখে পড়ত কিন্তু বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়ন মিলেও সেই সময়ের খড়ের তৈরি ঘর তেমনটা আর চোখে পড়েনা।

বর্তমানে টিনের অত্যাধুনিক ব্যবহারের ফলে খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে কুড়িগ্রাম জেলার গ্রাম – গঞ্জে মাঝে মাঝে ২/১টি খড়ের ছাউনির ঘর দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে ছনের ছাউনির ঘর ছিল। গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি মানুষ খড় দিয়ে ঘরের ছাউনি দিত।গরমের দিনে ঠান্ডা আর শীতের দিনে গরম, তাই তারা এই ঘরকে এসি ঘর বলে। উচ্চবিত্তরা শখের বসে কখনও কখনও পাকা ঘরের চিলকোঠায় ছন ব্যবহার করতো।

সরেজমিনে দেখাগেছে,যে, ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের বাসিন্দা শ্রী লক্ষী কান্ত রায় (২৮) ও মিয়াবাড়ী (ঝাড়খোলার) শ্রী অমুল্য চন্দ্র রায় (৫৪), নাগেশ্বরীর নেওয়াশী ইউনিয়ের অনুকূল রায় (৩২) নাখারগঞ্জের তৃষ্ণা রানী (৩০) ও ভূরুঙ্গামারীর কানাই লাল কর (৩২) ও উলিপুরের মানিক রায় (৩২) বলেন, বছর খানেক আগেও আমাদের বাড়ীর সবকয়টি ঘর খড় ছাউনির ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায এখন আর আমাদের বাড়ীতে খড়ের ঘর নেই। কিছুদিন আগে খড়ের ছাউনি ফেলে টিনের ছাউনি দেই। শীত ও গরমে উভয় দিনে ছনের ছাউনির ঘর বেশ আরামদায়ক। এছাড়াও বছর বছর খড় পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে অনেকে খড়ের ঘরকে ঝামেলা মনে করেন।একারণে খড়ের ছাউনির ঘরের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।আর তাই হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালিদের চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী এই চিহ্নটি। হয়তো সেই দিন আর বেশি দুরে নয়, খড়ের ছাউনির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজম্ম রূপকথার গল্পে এই ঘরকে স্থান দিতে স্বাছন্দবোধ করবে। তবে আবার কেউবা পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে ২-১ টি খড়ের ছাউনির ঘর টিকিয়ে রেখেছেন।